রঙের ভুবন : রাঙ্গামাটি জুন 27, 2007
Posted by jhorohowa in Uncategorized.trackback
রাঙ্গামাটিতে প্রথম পা দিয়েই মনটা রঙ্গীন হয়ে গেলো। ঢাকা শহরের কৃত্রিম রঙ্গীন আর প্রকৃতির রঙ্গীন এর মধ্যে কত যে পার্থক্য তা বুঝতে পারলাম। হোটেল ডিগনিটি ‘র দুই রুম ভাড়া নিলাম। লেকের পাড়ে এই হোটেলের জানালা দিয়ে তাকালে রাঙ্গামাটির বিশাল নৈস্বর্গের একটা অংশ দেখা যায়। রাঙ্গামাটি শহরটা ছোট তবে বেশ পরিষ্কার। সন্ধ্যার পর রাস্তায় লোকজন কমে যায়। আমরা অবশ্য রাত 12 টা পযর্ন্ত রাস্তায় ঘোরাঘুরি করেছি। প্রথম দিনতো রাত 9টার দিকে হোটেলে খেতে এসে দেখি সব বন্ধ, তারপর হোটেল মালিককে অনুরোধ করে রান্নার ব্যবস্থা করানো হলো। হোটেল মালিক আমাদের জানিয়ে দিলেন এরপর রাত 8 টার আগে খেতে আসবেন।
রাঙ্গামাটিতে বেড়ানোর সবচেয়ে আনন্দ হলো লেকে বোট ভাড়া করে সারা দিনের জন্য বেড়িয়ে যাওয়া। শান্ত এই লেকের অপরিসীম সৌন্দর্য সবাইকেই মুগ্ধ করবে। লেকের মাঝে জেগে আছে ছোট-বড় পাহাড়, কোন কোন পাহাড় লোক বসতি শুন্য আবার কোন পাহাড়ে 2/3 টি ঘর আছে। একটু গভীরে গেলে লক্ষ্য করবেন পাহাড়ী ঝর্না। ইচ্ছে করলে যে কোন পাহাড়ে নেমে যেতে পারবেন। আমারা এখানকার সুভলং বাজার, পেদা টিং টিং, পর্যটন এই কয়টি বিচ্ছিন্ন পাহাড়ে গিয়েছিলাম, যার বর্ননা অন্য কোন লেখায় দিব।
এখানে আছে বিশাল বৌদ্ধ মন্দির আর রাজার বাড়ী। ঐ স্থানে যেতে আমাদের সন্ধ্যার পার হয়ে গেলো। রাজার বাড়ীর সামনে আছে বিশাল সিংহ মূর্তি আর কামান। বিশাল এলাকা নিয়ে তৈরী হয়েছে এই বৌদ্ধ মন্দির। শত বছরের পুরানো ঐতিহ্য একেবারে কাছ থেকে দেখে এলাম। অনেক রাত হয়ে গিয়েছে তাই চলে এলাম নৌকায়। নেমে পড়লাম হোটেলের পাশে এক স’মিলে।
এখানে এসে বেশ কয়েকজন উপজাতির সাথে পরিচয় হয়েছে। এদের একজন উপেন চাকমার ছেলে নিদেন চাকমা (পিন্টু), একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জ্যোতি চাকমা, ফ্রাংকো। আমারা সবাই হোটেলে আড্ডা দিলাম ঘন্টা খানেক। তাদের বন্ধুত্বপূর্ন আচরনে আমরা মুগ্ধ হোলাম। ফ্রাংকো তো আমাদের ঢাকায় আসার টিকেট কেটে দিলো এবং এমন ব্যবস্থা করে দিলো যাতে আমাদের আর বাস স্টান্ডে যেতে না হয়। আমাদের হোটেলের সামনে থেকে বাস আমাদের তুলে নিয়ে গেলো।
প্রথম প্রকাশ : সামহোয়্যার ইন ব্লগ/ঝড়ো হাওয়া
মে / ২০০৬ইং।
মন্তব্য»
No comments yet — be the first.